নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে আজ শেষ

1.11K রাজনীতি 2 hours ago

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে আজ শেষ প্রচার, ৬ অক্টোবর ভোট

কলকাতা, ৪ অক্টোবর ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে শেষ দিনের প্রচার আজ, রবিবার। সন্ধ্যার পর দুই কেন্দ্রেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারপর্ব শেষ হবে। আগামী ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর, শুক্রবার ভোটগণনা হবে।

দুই কেন্দ্রেই শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার তৎপরতা বেড়েছে। প্রার্থী ও দলের শীর্ষ নেতারা সভা, মিছিল ও জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনও পূর্বানুমান না করে এখন নজর মূলত শেষ দিনের প্রচার এবং ভোটগ্রহণের প্রস্তুতির দিকে।

নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর প্রচার

নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে আজ প্রচারে নামছেন শুভেন্দু অধিকারী। সকাল থেকেই তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে।

প্রথমে টেঙ্গুয়া থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত একটি মিছিল হওয়ার কথা। এরপর জনসভা রয়েছে। বিকেলে রাজারামচক থেকে জৌরিরমোড় হয়ে মীরের বাজার পর্যন্ত আরও একটি মিছিলের কর্মসূচি রয়েছে। মীরের বাজারেই পরবর্তী জনসভা হওয়ার কথা।

নন্দীগ্রামের এই উপনির্বাচনের পেছনে রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম থেকে ইস্তফা দেওয়ায় এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়।

বিজেপি নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। তিনি প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন সহযোগী ছিলেন এবং চলতি বছরের মে মাসে তাঁর মৃত্যু হয়।

নন্দীগ্রামে একাধিক দলের প্রার্থী

নন্দীগ্রামে এবার একাধিক রাজনৈতিক শিবিরের প্রার্থী রয়েছে। বিজেপির হাসিরানি রথের পাশাপাশি কংগ্রেসের মিলন প্রধান এবং সিপিআইয়ের শান্তিগোপাল গিরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তৃণমূলের দুই পৃথক শিবির থেকেও প্রার্থী রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের নির্বাচনী প্রচার নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে আইনি বিষয় সামনে এসেছে। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল, যার ফলে তিনি উপনির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে পারেন। তাঁকে ২১ অক্টোবর ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রেজিনগরেও শেষ দিনের প্রচার

মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও আজ শেষ দিনের প্রচার। বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূলের বিভিন্ন শিবির এবং অন্যান্য প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের জনসংযোগে ব্যস্ত।

রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী শঙ্করাভ সরকার। বিজেপি প্রচারে তাঁকে সামনে রেখে সভা ও রোড শো করেছে। রবিবারের শেষ দিনের প্রচারেও দলীয় নেতৃত্ব সক্রিয় রয়েছে।

রেজিনগর কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ নন্দীগ্রামের থেকে আলাদা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই এলাকার জনসংখ্যার বড় অংশ মুসলিম এবং ভোটের প্রচারে সেই ভোটারদের কাছে পৌঁছনোও বিভিন্ন দলের কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব সাম্প্রতিক প্রচারে উন্নয়ন ও স্থানীয় বিষয়গুলিকে সামনে রাখার ওপর জোর দিয়েছে বলে The Indian Express জানিয়েছে।

কেন হচ্ছে রেজিনগরে উপনির্বাচন?

রেজিনগরেও বিধায়ক পদ খালি হওয়ার কারণে উপনির্বাচন হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা দুই কেন্দ্রেই জয়ী হন। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

রেজিনগরে তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীকে নিয়েও শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে। তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন, পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পর নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত বজায় রাখেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় ইতিমধ্যেই পেরিয়ে যাওয়ায় তিনি নির্বাচনে রয়েছেন।

ভোটার তালিকাও আলোচনায়

উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়েও রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা চলছে।

The Times of India-র ২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই কেন্দ্র মিলিয়ে ১৮,০০০-এর বেশি SIR-সংক্রান্ত আপিল তখনও বিচারাধীন ছিল রেজিনগরে ১২,০০০-এর বেশি এবং নন্দীগ্রামে ৬,০০০-এর বেশি।

এই বিষয়টি ভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট আপিলগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং তার প্রভাব সম্পর্কে আলাদা করে সরকারি তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ভোট ৬ অক্টোবর, ফল ৯ অক্টোবর

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে। আজ সন্ধ্যায় প্রচার শেষ হওয়ার পর প্রার্থীদের হাতে আর প্রকাশ্য নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ থাকবে না। এরপর ভোটারদের ভোটদানের পালা।

৯ অক্টোবর ভোটগণনা হবে এবং সেদিনই দুই কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশিত হবে।

এই মুহূর্তে দুই কেন্দ্রেই শেষ দিনের প্রচার, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, বুথভিত্তিক প্রস্তুতি এবং নির্বাচন পরিচালনার দিকে রাজনৈতিক দলগুলির নজর। ফলাফল সম্পর্কে কোনও পূর্বাভাস না দিয়ে ৬ অক্টোবরের ভোট এবং ৯ অক্টোবরের গণনার দিকেই এখন নজর থাকবে।

Latest Update